রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন
নিউজ অনলাইন :: সাভারের আশুলিয়ায় আরো এক পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন তিন শতাধিক শ্রমিক।
এ ঘটনায় শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিরা বাড়ি ফিরে যায়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জামগড়ার কাঁঠালতলা এলাকার ভাটিকান নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানা হঠাৎ বন্ধ করা হয়। শ্রমিকরা জানান, কারখানায় প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক কাজ করলেও বৃহস্পতিবার থেকে করোনা মহামারির কারণ দেখিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে ২০ এপ্রিল শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
তারা জানান, কারখানা বন্ধ ও খোলার সঠিক তথ্য না পেয়ে শ্রমিকরা ফোনে কারখানার পিএম (প্রডাকশন ম্যানেজার) ফয়েজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এ ঘটনায় পিএম ফয়েজ শ্রমিকদের মৌখিকভাবে কারখানা বন্ধের বিষয় জানিয়ে অন্যত্র কাজ খুঁজে নেয়ার বলেন।
বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা জানায়, এভাবে মুখে মুখে আমাদের চাকরিচ্যুত করা যাবে না, চাকরিচ্যুত করতে হলে আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
কারখানার ফিনিশিং শাখার শ্রমিক নজরুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারির কারন দেখিয়ে হঠাৎ করে কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করায় কারখানার পিএম ফয়েজের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করি। তিনি বলেন, কারখানাটি মালিক আর চালাতে পারবে না। তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তোমরা অন্য কোথাও চাকরি খুঁজে নাও।
এ ঘটনায় আমরা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে নিয়ে বিক্ষোভ করলেও কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই অথবা কারখানা বন্ধের বিষয়ে কিছু বলছে না।
শ্রমিক হোসনেয়ারা বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে এখানে কাজ করি। হঠাৎ করে ছাঁটাই কিংবা কারখানা বন্ধ করে অন্য কোথাও চাকরি খুঁজে নিতে বললে আমরা কোথায় যাব। এ দুর্যোগের মধ্যে নতুন করে কোথাও চাকরি পাওয়া সম্ভব নয়।
এ ছাড়া কারখানা বন্ধ কিংবা ছাঁটাই করা হলে কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন অনুযায়ী আমাদের পাওনা বুঝিয়ে না দিলে আমরা এখানে অবস্থান করব।
কারখানা বন্ধের বিষয়ে জানতে মালিক ফয়সালের মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া কারখানার পিএম ফয়েজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকেও পাওয়া যায় নি।
বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিকলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বলেন, শ্রমিকরা যাতে কর্মহীন না থাকে, তাদের হাতে যেন টাকা থাকে তাই কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের সহায়তার জন্য সরকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু মালিকরা বেআইনিভাবে শ্রমিকদের ছাঁটাই করে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে তৈরি পোশাক শিল্পাঞ্চলকে অস্থীতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। আমাদের দাবি অবিলম্বে কালখানাটি চালু এবং শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হোক।
অন্যদিকে দুই মাসের বকেয়া বেতনে দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে সাভার পৌর এলাকার ভাগলপুর মহল্লায় অবস্থিত বেঙ্গল ফাইন সিরামিক্স কারখানার চার শতাধিক শ্রমিক।
এ সময় বেতন না পাওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বে না বলে হুঁশিয়ারি দিলেও পরে পুলিশ এসে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জানে আলম বলেন, মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ ও কারখানা খুলে দেওয়ার দুই ঘটনায় আশ্বাস দিয়ে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া যে কোনো ধরনের অপ্রীতির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি।